|বাজেট প্রতিক্রিয়া|
|১২ জুন, ২০২৬ |
|সাজ্জাদ জহির |
বাজেট বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগের মতো কিছু অতি সাধারণীকৃত লক্ষ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। লক্ষ্যগুলো পুনরুদ্ধার, পুনর্বিন্যাস ও পুনঃনির্মান (সংস্কার) — এই তিন ধাপে ১ বছর, ১-৩ ও ১-৫ বছরের মেয়াদে পূরণ করবার উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্ত চাওয়াগুলো সম্ভবত অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সংগতি রেখে সামষ্টিক অর্থনীতির চলকগুলো বিবেচনায় এনে কোনো বিশ্লেষণের ফলাফল নয়।
একটি আদর্শিক কর ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট রাজস্ব আদায় সম্ভব। কিন্তু প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার, অনলাইনে কর-হিসাব (রিটার্নস) জমা দেয়ার নানাবিধ ঝক্কি এবং কর-আদায়কারী ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না এনে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করি।
ঘাটতি যে হবে তা বাজেট বক্তব্যে স্বীকৃত। সেই ঘাটতি মেটানোর জন্য কিছু প্রকল্প-ছাট সাশ্রয় আনবে। তবে পরিচালন ব্যয়ে সংযমী হয়ে প্রশাসনের গুণগত মান উন্নত করার কোনো পদক্ষেপ নজরে পড়েনি।
অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু বস্তুনির্ভর পরিকল্পনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষুদ্র রাজনৈতিক চাওয়া-পাওয়াকে দমিত রাখা একান্ত জরুরি। সংখ্যার বিশদতায় না যেয়ে মোটা দাগে বলা যায় যে, সম্পদ বিক্রি এবং দেনা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারী বাজেটে যেসকল কর্মকান্ড অর্থায়ন করা হবে, তা বিশ্লেষণ-ভিত্তিক পরিকল্পনার অভাবে প্রথম বছর সামাল দিতে পারলেও ৫-বছর মেয়াদী আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করতে পারবে কিনা সেব্যাপারে সংশয় রয়েছ যায়।
আশা করবো যে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অংকগুলো (বিভিন্ন সংখ্যার সঙ্গতি) আরও গভীরে খতিয়ে দেখবেন।
_____________________________________________
সাজ্জাদ জহির
নির্বাহী পরিচালক ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ
12